
পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও অপপ্রচার রুখতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কড়া পাহারায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন জোটের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগরীর কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা তার কোনো অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই থমথমে পরিস্থিতির মাঝে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন জোটের নেতাকর্মীরা। বহদ্দারহাট, টাইগারপাস, জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, পলিটেকনিক, বায়েজিদ ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন প্রধান সড়ক এবং অলি-গলিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক আলোচনা সভা, সমাবেশ ও মিছিল করতে দেখা যায় তাদের।
মাঠে সক্রিয় থাকা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠন (যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল)।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির।
এনসিপি, যুবশক্তি, নারীশক্তি এবং ছাত্রশক্তি।
"আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নেই, তবে ৪১টি ওয়ার্ডেই নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় আছেন। কোনো দুষ্কৃতকারী যেন মাঠে নেমে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছি।"
— নাজিমুর রহমান, সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।
বিকালে বিক্ষোভ ও সন্ধ্যায় মশাল মিছিলের ডাক
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর ২ নম্বর গেট চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (চট্টগ্রাম উত্তর জেলা)। এছাড়া দলটির মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ সন্ধ্যায় ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত একটি মশাল মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও সহিংসতা ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। নগরীর মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।